পোস্টগুলি

কালের পরিবর্তন

ছবি
  বলছিলাম তথাকথিত ধর্ম গুলোর বাস্তবিক তাৎপর্য না থাকলেও এর একটা মানবিক ও সামাজিক দিক ছিলো বলে আমি জানতাম। অধুনা ধর্মের হয়ে মানবতার বিরুদ্ধে যে ক্রুসেড শুরু হয়েছে তার উদাহরণ গুলোর সাথে এটিও যুক্ত হলো। কাবুলের হাসপাতালে ৩০ জন নিহত এক আত্মঘাতী হামলায় যেখানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসকের ছদ্মবেশে ধরে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মুরতাদ নিধনের নামে শেষ পর্যন্ত হসপিটালও আর মানুষের জন্যে নিরাপদ নয়! সেখানেও আত্মঘাতী বোমা হামলা! যুদ্ধক্ষেত্রেও হাসপাতাল আক্রান্ত হয়না, যুদ্ধরীতিতে। সর্বশেষ বিশ্বযুদ্ধের কালেও সেইসব ঐতিহাসিক নজির আছে। আর এখন বিশ্বব্যাপী যা ঘটে চলেছে তা না ধর্মীয়, না সামরিক, কোন রীতিতেই পড়ে না। স্বাভাবিক ভাবেই সবার মনে প্রশ্ন জাগে যে ধর্মটা আসলে তাহলে কি জিনিস? আমার কাছে প্রকৃতি বর্ণনায় অতিপ্রাকৃততার মস্তিষ্ক প্রসূত ব্যাখ্যা। বিজ্ঞান-পূর্ব যুগের মানুষের ভাবনা, মিথ বা দর্শন। সেখানে আছে ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, সৃষ্টির উদ্দেশ্য আর স্রষ্টার প্রতি মানুষের করণীয়। ক্...

জংগীবাদ কাহাকে বলে?

 জংগিবাদ বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি? কিছু বিচিত্র আরবী নামওয়ালা গোপন সংগঠনের সাথে যুক্ত বিশেষ ধরনের চেহারা এবং লেবাসধারী লোকজন ধর্মীয় জোশে হঠাত হঠাত কিছু চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে কিছু নিরীহ মানুষ মেরে আবারো গর্তে ঢুকে যায় সেসব ঘটনাকে? জংগীবাদের উত্থান রহস্য যাইই হোক এটা তো পরিষ্কার যে তাদের মূল লক্ষ্য সাধারন সন্ত্রাসী দলের মত টাকা পয়সা লুটপাট নয়, তারা একটি বিশেষ ধরনের আদর্শবাদ মাথায় নিয়ে এসব কর্মকান্ড করে আসছে যা গোপন কিছু নয়। তারা বাংলাদেশসহ সমগ্র দুনিয়াব্যাপী ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্ন দেখে, যার রাজনৈতিক রূপ ইসলামী শরিয়া ভিত্তিক খিলাফত। টাকা পয়সার লোভে কেউ আত্মঘাতি হয় না, আত্মঘাতি হয় আদর্শগত কারনে। সেই আদর্শ ধর্মের চোখে সহি কিনা সেটা এখানের বিবেচ্য না। ইসলামী জংগীবাদ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা আমার ধারনা দেশের শীর্ষ নির্বাহী থেকে শুরু করে সাধারন নাগরিক কারোরই নেই, নইলে এক মুসলমান অপর মুসলমানকে হত্যা করতে পারে না, রোজার মাসে মানুষ মারে কেমন মুসলমান এই ধরনের সারল্যমাখা বিস্ময়সূচক মন্তব্য করতে পারতেন না। জংগী জেহাদীরা যে বা যারাই তাদের ইসলামী আদর্শ ভিত্তিক খিলাফত গঠনের পথে বাধা হিসেবে দেখে তা...

মানহানি অপরাধের বিচার!

ছবি
  আপনি একজন ঘৃণ্য নারীবিদ্বেষী। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে এটা দেখাব যে কী ধরনের ডাহা জোচ্চর আর মিথ্যাবাদী আপনি।’ ওপরের কথাগুলো বলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেছেন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের আইনজীবী। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মানহানি মামলা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরি ওবামার ওপর ক্ষিপ্ত মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য ওবামার নামে বের করা হয়েছিল টয়লেট টিস্যু। এ জন্যও কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। বাংলাদেশে আমরা এমন পরিস্থিতির কথা কল্পনাও করতে পারি না। বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বরং মানহানি মামলা হয় শক্তিমানদের পক্ষে, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে। অথচ এটি মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। আমেরিকা বা ইউরোপের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানহানির মামলা সাধারণত হয় বরং প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অসাধারণদের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য মানহানি মামলা হয়েছে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা ...

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই

ছবি
 অর্গানাইজড রিলিজিয়নের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদও প্রচন্ড ভয়ঙ্কর। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, অধিকাংশ মানুষই আর প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী থাকলো না (বর্তমান পৃথিবীতে ২০ থেকে ৩০ ভাগ মানুষ নাকি আর কোনো প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নয়), তবুও কি পৃথিবী থেকে হিংসার উন্মত্ততা থামবে? ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় যে, প্রবল জাতীয়তাবাদ এবং আধিপত্যবাদের কারণে এ পৃথিবীতে যতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ধর্মীয় হিংস্রতার কারণে ততো হারায়নি। একমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার পেছনের কারণ উগ্র জাতীয়তাবাদ ও প্রবল আধিপত্যবাদ। তাই ব’লে ধর্মীয় বিভেদের কারণে যে কম মানুষ মরেছে সেটা কিন্তু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রসারণবাদের বলী হয়েছে সবচেয়ে বেশী। ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ কিংবা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই বাংলাদেশেরই লাখ-লাখ মানুষ ধর্মীয় বিভাজনের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। সে ক্ষতচিহ্ন এখনও বাংলার অসংখ্য মানুষ বহে বেড়াচ্ছে। অতি সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এক উগ্র শ্বেতাংগ জাতীয়তাবাদী পবিত্র মসজিদে নামাজরত নিরীহ মানুষকে যে ভাবে হত্যা করেছে, তার নিন্দে ও ঘ...

স্বার্থপরতা কি কোন দোষ, নাকি গুণ?

 স্বার্থপরতা প্রাণীর একটা মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সেই হিসাবে মানুষও স্বার্থপর প্রাণী। কিন্তু হিউম্যান জেনমের ঠিক কোন অংশটা স্বার্থপরতার জন্যে দায়ী সেটা বলা বেশ শক্ত। তবে প্রাণী তথা মানুষের এই স্বভাবটা যে তার দেহঘড়ির অভ্যন্তরে লুকিয়ে রয়েছে, সে কথা প্রকারান্তরে প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট বিবর্তন-বিজ্ঞানী জনাব রিচার্ড ডকিন্স তার ‘সেলফিশ জীন’ নামক গ্রন্থখানিতে। মানুষের জীনের একক ডিএনএ মূলত চারটা প্রোটিন, দুটো ফসফেট, চারটা ডিঅক্সিরাইবোজ নিয়ে যে মই-প্যাঁচানি দিয়েছে, সেই প্যাঁচের কোন এক ভাঁজে যে স্বার্থপরতা নামক গুণপনাটি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই হয়তো তাকে আলাদা করে আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে তা যে প্রতিটা ডিএনএ এককের সাথে আমূল প্রতিথ সেটা মোটামুটি বুঝা যায় ব্যবহারিক বাস্তবতায়। স্বার্থপরতা কি কোন দোষ, নাকি গুণ? স্বার্থপরতা কোন দোষও না, কোন গুণও না। এটা একটা বৈশিষ্ট্য, প্রাণীজ বিমূর্ত বৈশিষ্ট্য। একটা দৃষ্টিগ্রাহ্য বস্তুবাদী উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ব্যাপারটা বুঝাতে। আণবিক শক্তি কাজে লাগিয়ে যে বোমা তৈরি হয়, তা দিয়ে যেমন হিরোশিমা, নাগাসাকি গুড়িয়ে দেয়া যায়, তেমনি সেই একই আণবিক শক্তিকে...

কওমি সনদের স্বীকৃতিতে আলেমদের প্রতিক্রিয়া....

"আলহামদুলিল্লাহ" বহুল প্রতীক্ষিত কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদের আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশের অধীন কওমী মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস তাকমিলের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান প্রদান) বিল ২০১৮- সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহীদ। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর সর্বসম্মতি ক্রমে পাস করা হয়। আজ স্বাধীনতার এতো বছর পর আইনটি পাস হওয়া নিয়ে বেফাকের সহসভাপতি, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীচরের মুহতামিম আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি আমাদের অধিকার, এতদিন আমরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানী অনেকদিন পর হলেও আমরা আমাদের অধিকার; কওমী সনদের স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অনেক অনেক শুকরিয়া আদায় করতেছি। তিনি সরকার প্রধা...

কোটা সংস্কার নিয়ে কিছু কথা

ছবি
  ২০১৮-র কোটা সংস্কার আন্দোলন  বাংলাদেশে সব ধরনের  সরকারি চাকরির  ক্ষেত্রে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সংগঠিত একটি চলমান আন্দোলন।  ১৯৭২ সাল থেকে চালু হওয়া কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ' বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ '-এর নেতৃত্বে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। [১৩] [১৪] [১৫]  লাগাতার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৪৬ বছর ধরে চলা কোটাব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে সরকার চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার ৫টি দাবি নিয়ে চাকরি প্রত্যাশীরা আন্দোলন করছেন। দাবিসমূহ হলো: সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বর্তমান কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া। সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ। কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না রাখা। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা।...