পোস্টগুলি

উন্নয়নের জোয়ারে ধ্বংসের পথে স্বদেশ

লিখছিলাম:রেজাউল হক,ব্লগার   ২০২১সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার এ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে অনেক দূর এগিয়েছে পিছনের তুলনায়  এটা সত্যি  কিন্তু বাড়তি কোনো সুবিধা আসছে কি সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে , বন্ধ হয়েছে কি দুর্নীতি, জাতি হিসেবে কি আমরা হয়ে উঠেছে সভ্য? একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে পরিবর্তন করতে না পারলে দেশের উন্নতি আশা করাটা কতটা বোকামো ? সরকারের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার চেষ্টাতে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন নিয়ে কতটা ভাবছে সরকার, আদৌ কি ভাবছে গরীব দুঃখী মানুষের কথা,এমন প্রশ্ন উঁকি দেই আমার মনে। উন্নয়নের প্রচণ্ড ডামাডোল বাজছে চতুর্দিকে। দেশের শাসকগোষ্ঠী তারস্বরে ঘোষণা করছেন আমাদের দেশ সহসা নাকি শুধু এশিয়ার নয়, বিশ্বের রোল মডেল হতে যাচ্ছে। আমরা নাকি সহসা কানাডা, ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে যাব। আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যাংক বীমা অফিস আদালতে আমরা দেদারসে ইন্টারনেট, কম্পিউটার,ব্যবহার করছি। হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিক্ষেপ করেছি। আমাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শণৈঃ শণৈঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক...

গোল্ডেনের চাপে আমাদের শিশুরা

 আসলে ছেলেমেয়েদের, বিশেষত শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরতদের জন্য স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়া আনন্দের ব্যাপারই বটে। কিন্তু সেটা আর আনন্দময় থাকে না কতিপয় বিদ্যালোভী অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কারণে। তারা সকল শিশুকেই ‘আইনস্টাইন’ বানাতে চায়। ফলে বিদ্যাশিক্ষা শিশুর স্বভাব ধ্বংসকারী বোঝা হয়ে ওঠে। স্কুলব্যাগের বোঝাকে কেবল শারীরিক ক্লেশ দিয়ে বুঝালেই চলবে না। ওজনদার পাঠ্যবইয়ের বোঝা কেবল বহন করা নয়, পড়তেও হয়; বাড়িতে ফিরে ঘাড়মুখ গুঁজে একগাদা হোমওয়ার্কও করতে হয়। অর্থাত্, শুষ্কজ্ঞানের বোঝাও তাদের বয়ে চলতে হয়। ফলে জগিবিচ্ছিন্ন কলুর বলদের মতো তারা শারীরিক ও মানসিক উভয়বিধ যন্ত্রণাতেই কাতর হতে থাকে। পরিণতিতে, বড় হয়েও তারা বহির্জগতে একা চলতে অক্ষম থেকে যায়। এরূপ কৃত্রিম জ্ঞানবিদ্যাচর্চা নিয়ে সারাবিশ্বে সমালোচনা চলছে। ইউরোপে আজকাল কৃত্রিম স্কুলের বিপরীতে প্রাকৃতিক স্কুল ধারণা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশার কথা হলো, বইয়ের বোঝা কমাতে সরকার নানাআইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে চললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঠিক “কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই” এর মতো অবস্থা।অর্থ্যাত মাঠ পর্যায়ে নেই সেই আইনের কোন বাস্ত...

নিহত আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলেই লেখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’

ছবি
 যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন আবরার সেই সড়কেই প্রাণ গেল তার। নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন বাংলাদেশের সড়কগুলো এখনও নিরাপদ নয়। আর কতো আবরারে প্রাণ গেলে সড়ক নিরাপদ হবে-সবার মধ্যে এখন এমন প্রশ্নই।  গত বছর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।  সেই আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক বিভাগের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী।  মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নর্দ্দায় সড়কেই বাসচাপায় মারা গেলেন এই তরুণ।নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছরের ২৯ জুলাই আন্দোলন শুরু হয়। রাস্তায় নেমে আসেন সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ, এক পর্যায়ে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু করেন তারা। ওই আন্দোলন চলাকালে ২ আগস্ট আবরার তার ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের ছবি প্রকাশ করেন। যার নিচে লিখা ছিল ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও আবরারের বন্ধু নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আবরারও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ...

আধিপত্য বিস্তারে পথে হাঁটছে রোহিঙ্গা!

ছবি
 পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছিল। মানবাধিকারের অন্যরকম এক নিদর্শন দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই রোহিঙ্গা দুই বছর পর এসে বাংলাদেশের মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ।  মিয়ানমার রাখাইনে থাকা অন্য ধর্মী অধিবাসী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বহু আগে থেকেই। রাষ্ট্র যখন অন্য অধিবাসীদের পক্ষ নেই তখন রাখাইন থাকা রোহিঙ্গারা যখন সেদেশের নিরাপত্তার উপর হামলা করেছিল, তখন এর পাল্টা জবাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীও রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন শুরু করে দিলো। ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করলো। এভাবে পালাক্রমে দলেদলে আসতে থাকা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখেরও বেশি। যা আমাদের ছোট্ট একটা দেশের জন্য বিরাট একটা বোঝা। আমাদের মাথায় ঋণের বোঝা থাকলেও আমরা কিন্তু অতিথিপরায়ণ। আমাদের মানবতা একটু বেশি। কারোর দুঃখ দেখলে আমাদের দরদ উথলে পড়ে। কারণ মানবতার দিক দিয়ে আমরা পৃথিবীতে সেরা, তাই। আমাদের আরকিছু না থাকুক, কিন্তু মানবতা আছে। মানবতার আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নি...

কালের পরিবর্তন

ছবি
  বলছিলাম তথাকথিত ধর্ম গুলোর বাস্তবিক তাৎপর্য না থাকলেও এর একটা মানবিক ও সামাজিক দিক ছিলো বলে আমি জানতাম। অধুনা ধর্মের হয়ে মানবতার বিরুদ্ধে যে ক্রুসেড শুরু হয়েছে তার উদাহরণ গুলোর সাথে এটিও যুক্ত হলো। কাবুলের হাসপাতালে ৩০ জন নিহত এক আত্মঘাতী হামলায় যেখানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসকের ছদ্মবেশে ধরে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মুরতাদ নিধনের নামে শেষ পর্যন্ত হসপিটালও আর মানুষের জন্যে নিরাপদ নয়! সেখানেও আত্মঘাতী বোমা হামলা! যুদ্ধক্ষেত্রেও হাসপাতাল আক্রান্ত হয়না, যুদ্ধরীতিতে। সর্বশেষ বিশ্বযুদ্ধের কালেও সেইসব ঐতিহাসিক নজির আছে। আর এখন বিশ্বব্যাপী যা ঘটে চলেছে তা না ধর্মীয়, না সামরিক, কোন রীতিতেই পড়ে না। স্বাভাবিক ভাবেই সবার মনে প্রশ্ন জাগে যে ধর্মটা আসলে তাহলে কি জিনিস? আমার কাছে প্রকৃতি বর্ণনায় অতিপ্রাকৃততার মস্তিষ্ক প্রসূত ব্যাখ্যা। বিজ্ঞান-পূর্ব যুগের মানুষের ভাবনা, মিথ বা দর্শন। সেখানে আছে ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, সৃষ্টির উদ্দেশ্য আর স্রষ্টার প্রতি মানুষের করণীয়। ক্...

জংগীবাদ কাহাকে বলে?

 জংগিবাদ বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি? কিছু বিচিত্র আরবী নামওয়ালা গোপন সংগঠনের সাথে যুক্ত বিশেষ ধরনের চেহারা এবং লেবাসধারী লোকজন ধর্মীয় জোশে হঠাত হঠাত কিছু চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে কিছু নিরীহ মানুষ মেরে আবারো গর্তে ঢুকে যায় সেসব ঘটনাকে? জংগীবাদের উত্থান রহস্য যাইই হোক এটা তো পরিষ্কার যে তাদের মূল লক্ষ্য সাধারন সন্ত্রাসী দলের মত টাকা পয়সা লুটপাট নয়, তারা একটি বিশেষ ধরনের আদর্শবাদ মাথায় নিয়ে এসব কর্মকান্ড করে আসছে যা গোপন কিছু নয়। তারা বাংলাদেশসহ সমগ্র দুনিয়াব্যাপী ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্ন দেখে, যার রাজনৈতিক রূপ ইসলামী শরিয়া ভিত্তিক খিলাফত। টাকা পয়সার লোভে কেউ আত্মঘাতি হয় না, আত্মঘাতি হয় আদর্শগত কারনে। সেই আদর্শ ধর্মের চোখে সহি কিনা সেটা এখানের বিবেচ্য না। ইসলামী জংগীবাদ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা আমার ধারনা দেশের শীর্ষ নির্বাহী থেকে শুরু করে সাধারন নাগরিক কারোরই নেই, নইলে এক মুসলমান অপর মুসলমানকে হত্যা করতে পারে না, রোজার মাসে মানুষ মারে কেমন মুসলমান এই ধরনের সারল্যমাখা বিস্ময়সূচক মন্তব্য করতে পারতেন না। জংগী জেহাদীরা যে বা যারাই তাদের ইসলামী আদর্শ ভিত্তিক খিলাফত গঠনের পথে বাধা হিসেবে দেখে তা...

মানহানি অপরাধের বিচার!

ছবি
  আপনি একজন ঘৃণ্য নারীবিদ্বেষী। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে এটা দেখাব যে কী ধরনের ডাহা জোচ্চর আর মিথ্যাবাদী আপনি।’ ওপরের কথাগুলো বলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেছেন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের আইনজীবী। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মানহানি মামলা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরি ওবামার ওপর ক্ষিপ্ত মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য ওবামার নামে বের করা হয়েছিল টয়লেট টিস্যু। এ জন্যও কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। বাংলাদেশে আমরা এমন পরিস্থিতির কথা কল্পনাও করতে পারি না। বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বরং মানহানি মামলা হয় শক্তিমানদের পক্ষে, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে। অথচ এটি মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। আমেরিকা বা ইউরোপের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানহানির মামলা সাধারণত হয় বরং প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অসাধারণদের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য মানহানি মামলা হয়েছে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা ...