রডের বদলে বাঁশ!

লেখক:রেজাউল হক,ব্লগার

 ২০১৮ সালের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে রডের বদলে বাঁশ এ যেন নতুন কিছু নয়। আমি এর আগেও অনেক বার রডের বদলে বাঁশ এর ব্যবহার দেখেছি, ২০১৭ সালে আমরা স্কুল  নির্মাণের রডের বদলে বাঁশ এর ব্যবহার দেখেছিলাম।

এবার সিলেটের তৃতীয় শাহজালাল সেতুর সংস্কারের  কাজে রডের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। যে সেতু দিয়ে পার হয় হাজারো গাড়ি হাজারো মানুষ অর্থনীতির চাকা সচল করে যে রাস্তাঘাট এবং কালভাট ব্রিজ গুলা সেখানেই যখন দুর্নীতি চোখে পড়ার মতো । তখনই দেশের উন্নতি আশা করাটা কতটা বোকামী? যাদের কাছে মানুষের আস্থা যারা দেশ গড়ার কারিগর তারাই যেন শিখিয়ে দিয়েছে আমাদেরকে কি করে নিজের পকেট ভারি করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া যায়  আমরা সাধারন জনগন তো এত কিছু মারফত বুঝতে চায় না। সহজ সরল ভাষায় আমরা চাই দেশের উন্নয়ন চায় বিশ্বে আমাদের দেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াক কিন্তু কে বাদা এই উন্নয়নের ?কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয় কাজের জন্য সে কাজ যখন স্থায়িত্ব হারাই  বছরেরও কম তখন দেশের উন্নতি কিভাবে সম্ভব প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে।২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে একটি অংশ ভেঙে গেলে বের হয়ে আসে বাঁশের ব্যবহার স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রডের বদলে বাঁশ ব্যব হার করে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকার একটি গ্রামের এই সেতুটি ভেঙে গেলে বিভিন্ন অংশে বাসের ব্যবহার দেখা যায়। হাত দিয়ে স্পর্শ করলে সিমেন্ট সহ পাথরে ছুটে আসে হাতের মুঠোয় ।স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট এন্টারপ্রাইজ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসাইন সেতু নির্মাণে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন দায়সারাভাবে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুতে কাজ করার শ্রমিক রফিক আলী জানাই রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করার কথা। নেই কোন ইঞ্জিনিয়ার নেই কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই কোন পর্যবেক্ষণ এমন ভাবে ভাবে গড়ে উঠছে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প । যার স্থায়িত্ব এক বছরেরও কম। তাহলে উপর মহলের মানুষ তখন কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে? নাকি দুর্নীতির মূল ফটক উপর মহলের মানুষ? আমাদের সাধারন জনগনের মনে প্রশ্ন টা সবসময় উঁকি দেই।নেই কোন এর উত্তর তাহলে কি বন্ধ হবে না আমাদের দেশের এই দুর্নীতি ?


এর বিরুদ্ধে কলম ধরার নেই কোন মানুষ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই যেন নিজের মৃত্যুর নিজেই ডেকে আনার মত অবস্থায় পড়তে হয় ব্লগার ,সাংবাদিক এবং অন্যান্য মিডিয়ার মানুষদের। নেই কোন তল্লাশির মানুষ কারা তল্লাশি করবে যারা করবে তারাই তো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডার ।

সরকার থেকে ঠিকই বরাদ্দ হয় কোটি কোটি টাকা তাহলে এতগুলো টাকা কাজে না লেগে কোথায় হারিয়ে যাই নেই কোন তার হিসেব । সেদিনও টিভিতে একটি রিপোর্ট দেখলাম, বাদ মেরামতের জন্য ২৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার পরে 360 ডিগ্রী যমুনা টিভির একই অনুষ্ঠানে দেখা যায় সেই ২৮লাখ টাকার কাজ শেষ হয়েছে ৪ লাখ টাকায় তাহলে বাকি 24 লাখ টাকা কোথায়? 

এগুলো আমাদের কাছে নতুন কিছু নয় আমরা সেই জন্মলগ্ন  থেকে দেখে আসছি ।এইগুলো দেশের বর্তমান যুবসমাজ দেশের বর্তমান নতুন প্রজন্ম কি শিখছে ?এই নতুন বাংলাদেশ থেকে বর্তমান প্রজন্মরা কি দেখে বড় হচ্ছে।যেখানে অন্য দেশগুলো প্রতিযোগিতায় মগ্ন নিজেদের উন্নতির দিকে সেখানে আমাদের দেশের মানুষ ব্যস্ত নিজের পকেট ভারী করতে।তাহলে কি সরকারের চোখে পড়ছে না এইসব দূর্নীতি-অনিয়ম নাকি সবদেখা সত্বেও না দেখার ভান করে আছে সরকার?

আমি একজন ব্লগার আমার ক্ষমতা নেই কাউকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যদি আমি সাংবাদিক হতাম বা আমার ক্ষমতা থাকতো তাহলে আমি ঐসব দুর্নীতি অনিয়ম কারীদের কাছে জানতে চাইতাম কত টাকা হলে রাজনীতি ছেড়ে দিবে? তাদের আর কত চাই কত দিলে তাদের পেট ভরে যাবে। নেই কোনো নিয়মের বেড়াজাল নেই কোন আইন যতদিন না এই দুর্নীতি বন্ধ হবে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা বা উন্নত দেশের সাথে তুলনা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আছি এই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা সব জেনেও চুপ কেন সরকার। কোথায় এর শেষ? আমরা কি আর উন্নত দেশে পরিণত হবে না? মনে পড়ে যায় সেই শেখ শেখ মুজিবের সবজিওয়ালা ও ২০ টাকার ঘটনা। যেখানে উপর মহল থেকে নিচে আসতে আসতেই ১০ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পেক্ষাপটে ১০ টাকা নয় শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে উপর মহল থেকে নিচে নামার আগেই ।তারপর আমাদের শিক্ষা নেই, আমাদের আইনের কোনো পরিবর্তন নেই, নেই কারো মাথা ব্যাথা ,তাহলে কি বারবার অন্যায় কারীর অন্যায় করে পার পেয়ে যাবে এভাবেই ?হবে না তাদের শাস্তি ।আহ-আহ-আহ কোথায় মিলবে শান্তি আমরা মানুষের মতো মানুষ হতে পারবো কি আদৌ ।

লেখক:রেজাউল হক,ব্লগার।





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি

ক্ষমতা !

সোনামণির স্কুল যাত্রায় হতে হবে সতর্ক!