পোস্টগুলি

গণতান্ত্রিক দেশ কি গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে চল

 গণতন্ত্র হল ‘জনগণের দ্বারা গঠিত, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার’ (government by the people, for the people, of the people)- আব্রাহাম লিংকনের এই লাইনটি যদি হয় গণতন্ত্রের সর্বজনীন এবং সর্বাধিক সমর্থিত ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা, তাহলে সংজ্ঞাটি নিশ্চয়ই আমাদের সবার কাছ থেকে একটা প্রশ্নের উত্তর চাইতে পারে যে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ টিকিয়ে রেখে অথবা গরিব শোষণের সব ধরনের নিয়ম-রীতিকে আঘাত না করে এবং এমন আরও অনেক বিষয়ের মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব?  কারণ আমরা দেখেছি, পৃথিবীর অনেক দেশেই লিংকন-কথিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও সেসব সরকার এমন কিছু বিষয়ের নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নেয়নি, যেগুলো গণতন্ত্র নামক বৃক্ষের সৌন্দর্যবর্ধক ডালপালার মতো হওয়ার কথা ছিল। লিংকনের সংজ্ঞাটিতে কেবল সরকারের রূপ (form) ও চরিত্রকেই (characteristics) গণতন্ত্রের শর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে, অর্থাৎ বলা হচ্ছে সরকারটি যদি জনগণের ভোটে গঠিত হয় ও সেই সরকার যদি ঘোষণা করে সেটি জনগণের জন্যই গঠিত হয়েছে এবং আরও, জনগণ যদি সরকারটিকে নিজের মনে করে বগল দাবায়, তাহলেই গণতন্ত্রের ষোলোকলা পূর্ণ হ...

প্রসঙ্গ:বাকশক্তি হারান

 যুগের পরিবর্তে সব রাজনীতি গণতন্ত্র সবকিছুতে এসেছে পরিবর্তন কিন্তু এ পরিবর্তন কি মানুষের কল্যাণকর। কথা বলব নিজের সম্পর্কে ।  ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির ইচ্ছা নিয়ে বড় হয়েছি। লেখালেখিতে যেন অন্যরকম একটি আনন্দ। সত্যপ্রকাশ জন্ম-মৃত্যু মানবাধিকার এবং দুর্নীতি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক লিখেছি আমার ব্লগের মধ্যে। অনেক সময় সমালোচনার সামনেও পড়তে হয়েছে অনেক সময় অনেক বাদার। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সাল থেকে। আর তখন থেকেই এটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। আমার মতে  গণতন্ত্র হচ্ছে প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ মত প্রকাশ, নিজ ইচ্ছাতে সরকার গঠন, মানুষের অধিকার পাওয়া। কিন্তু উনিশ শতকে এসে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে এই বাংলার বুকে। অনেকদিন আগে থেকেই সাংবাদিকরা অচল হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীনদের কাছে এখন আর কারো সাহস নেই  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কথা বলার। নেই কোনো টিভি চ্যানেল, নেই কোন মিডিয়া যেখানে প্রকাশ করা হয় বর্তমান ক্ষমতাসীনদের দাপট এবং তাদের দাপটে চলা নতুন সমাজ ব্যবস্থার কথা। সাংবাদিক হত্যাঃ সত্য বললে কাউকে গুম করা ব্লগারদের রাতের অন্ধকারে হত্যা এমন হাজারো ঘটন...

মাদকসেবীদের দখলে কাজির বাজার সেতু!

ছবি
 শুরুতেই মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১৩ সালের ১৪ই আগস্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান এবং স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে খুণ করে তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশীর কথা । ইয়াবা আসক্ত ঐশীর বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর! শোনা যায় তার ইয়াবা আসক্তি ১৪ বছর বয়স থেকেই। বাবা মায়ের উদাসীনতা, উশৃঙ্খল জীবন যাপন, মাদকসেবী বন্ধু-বান্ধব, ডিজে পার্টি আর অর্থের সহজলভ্যতা তাকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। পরিণামে হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর খুণি। সময় সুযোগ বুঝে বাবা-মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। জানা যায় ঐদিন রাতে কফির সাথে ৬০টি ঘুমের বড়ি মিশিয়ে প্রথমে তাদেরকে অজ্ঞান করে, পরে গলায় ও বুকে ছুরি চালিয়ে খুণ করে। আমরা ভুলব না এই নির্মম হত্যাকে।  সম্প্রতি দেশে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে আশংকাজনক হারে। শুধু শহরের উচ্চবিত্ত নয়, গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, প্যাথেডিন সহ নানা নেশা জাতীয় দ্রব্য। মাদকের বিষাক্ত শক্তি শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে পরিবার ও সমাজে বিপর্যয় নেমে আসছে। বেড়েছে খুণ, ধর্ষণ, ছিনতাই সহ নানা অপরাধ। ধনী-দরিদ্র উভয় পরিবারের কিশোর-কিশোরী, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ব...

ছাত্র রাজনীতি!

 মুক্তবাজার অর্থনীতির সকল প্রকার রূপ-রস উগরে নিয়ে আমরা প্রতিদিন উন্নতি করছি। উন্নয়নের সূচক দিনদিন স্ফীত থেকে স্ফীততর হচ্ছে। আমরা সকাল বিকাল তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি এই ভেবে যে, এইতো আর কিছুদিন পরই আমরা পৌঁছে যাবো সেস্তরে যেখানে কেবল শান্তি আর শান্তি। মাঝে মধ্যে যে বদহজম হচ্ছেনা তা কিন্তু নয়। মুক্তবাজারের দাওয়াই দিয়েই তার উপশম হচ্ছে। বাণিজ্যই যখন দেশ কথা ; তখন আর যা কিছু আছে তা অতি নগন্য-তুচ্ছ। আমরা যে হাপ্পিতেশ করিনা তা কিন্তু নয়। মাঝে মধ্যেই আমরা আয়োজন করে হাপ্পিতেশ করি। অতঃপর খেই হারিয়ে আবার বাণিজ্যের রঙিন দুনিয়াই নীল হয়ে যাই। এই যে দিশাহীন যাপিত জীবন সেখানে দেশপ্রেম-ভালোবাসা-শ্রদ্ধা-সহনশীলতা কেবল বাহারি শব্দ। কাজেই জিপিএ ৫-ই চূড়ান্ত কথা। আচ্ছা একটি স্বাধীনদেশে দেশপ্রেমের ধরণ কিরূপ হবে? মহান রাজনীতিক থেকে শুরু করে আমাদের কোন বুদ্ধিজীবি কি কখনো এ বিষয়ে স্বল্প বা বৃহৎ পরিসরে আলোচনার সুযোগ নিয়েছে ? কিংবা তা সংযোজিত হয়েছে কোন পর্যায়ের পাঠ্যসূচীতে? তাইতো একদল দিশাহীন মেধাবী মনে করেন কাউকে পেটানো হচ্ছে দেশপ্রেম। যে স্টাটাস দিয়ে আবরার তাঁর দেশপ্রেমকে শানিত করার সুযোগ নিয়েছিল সেই আবরারকে পি...

প্রসঙ্গ:নীল

আজ থেকে চার বছর আগে অনুভূতির ইজারাদারদের হাতে প্রাণ দিয়েছে আমাদের   নীল। নীল কখনো অনুভুতিওয়ালাদের ক্ষতি করেছে বলেও আমাদের জানা নেই। তাদের চাপাতির বদলে নীলের সম্বল ছিল একটাই; লেখালেখি। তো সেই লেখালেখি কাদের বিরুদ্ধে ছিল? কারও বিরুদ্ধে আদৌ কি ছিল? নবী রসুল কিংবা অবতারদের ব্যক্তিজীবনের যে কথাগুলো সে লিখেছে, সেটা কি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গেছে? এমন তো নয় সে কখনো বানিয়ে বানিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে লিখেছে। যা লিখেছে তা হয় কোন টেক্সট বা ইতিহাস থেকেই লিখেছে। কেন লিখেছে? অবতারদের প্রতি তাঁদের ভক্ত বা উম্মতদের যে উন্মাদনা, সেটাতো নীল বা যারা যারা লিখেছেন তারা তৈরি করেন নি। নবী-রসূল বা অবতারদের বিরুদ্ধে কিংবা তাঁদের তৈরি টেক্সটের সমালোচনা বা জীবনালোচনা করা যাবে না এমন ফতোয়া যেসব মৌলবাদী দিয়েছেন, নীলেরা তো সেখানে আঘাত করতে চেয়েছেন। মৌলবাদীরা যে নবী-রসূলদের জীবনাচরণ শুনিয়ে মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে, যে কিতাব-পুঁথি বা টেক্সটের ধোঁয়া তুলে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিকভাবে মানুষকে হাজার হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে, যে অলৌকিক শক্তির ভয় দেখিয়ে মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে হরণ করেছে সে ধর্মের, সে...

গণতন্ত্রহীনতায় আইন করেও ধর্মনিরপেক্ষতা সম্ভব নয়।

 ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা যত সহজ বাস্তবায়ন টা ঠিক ততটাই কঠিন।খ্রিষ্টান ভূমি ইয়োরোপকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে বহুপথ হাঁটতে হয়েছে। এমনি এমনিতে গড়ে ওঠেনি।ক্যাথলিক গির্জা যখন মানুষের দান- খয়রাতের কল্যাণে অর্থ-ভূমি- প্রতিপত্তির দানবীয় রুপ ধারণ করে তখনই সংঘাত বাধে রাস্ট্রের সাথে। গির্জার দৌরাত্ম এতো বেশি ছিল যে, রাস্ট্র নিজেই গির্জার প্রজা হয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায় রাস্ট্রের সাথে গির্জার সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। সমান্তরালে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খ্রিস্ট ধর্মের বিভিন্ন সিলসিলার মধ্যে রক্তাক্ত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।এই যুদ্ধে শুধুমাত্র ১৬১৮ সাল থেকে ১৬৪৮ সালে মাএ ৩০ বছরে জার্মানি ও কেন্দ্রীয় ইয়োরোপে স্থানভেদে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা হ্রাস পায়।জার্মানির ওটেমবার্গ রাজ্যে জনসংখ্যা কমে ৭৫ শতাংশ। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোন দেশে যদি শতভাগ নাগরিক এক ধর্মের লোক হয় তবুও সে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রয়োজন।কারণ একটি ধর্মের বিভিন্ন মাজহাব রয়েছে, সবাই সবার মাজহাবকে সঠিক মনে করে এবং এর নীতি প্রয়োগ করতে চায়।এর ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। আধুনিক রাস্ট্রে বহু জাতি ধর্মের লোকজন বসবাস করে। ফলে অসংখ্য ধর্মীয় দল- উপদল সৃষ্টি হয়। তাদের...

স্কুলের দেয়ালেও শিক্ষা।

ছবি
  সিলেটের রিকাবীবাজার পয়েন্টে পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পাশ দিয়ে চলার পথে চোখ পরবে দেয়ালে। সেখানে লেখা রয়েছে বেশ কিছু উক্তি। কোনোটাতে লেখা রয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তি- ‘আমলা নয়, মানুষ সৃষ্টি করুন।’ মোবাইলে ধারণকৃত আবার কোনোটাতে জন লিভগেটের উক্তি- ‘যে নদীর গভীরতা বেশি, তার বয়ে যাওয়ার শব্দ কম’। অন্য একটি ছবিতে লেখা আছে, একটি সংগৃহীত বাণী- ‘এদেশের শিক্ষাকে রাজনীতি মুক্ত করা না গেলেও, রাজনীতিকে শিক্ষা মুক্ত করা গিয়েছে।’   পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও মদন মোহন কলেজ, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, দি এইডেড হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল, ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, হাজেল আল-জামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ সহ, আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের দেয়ালজুড়ে নানা মনীষীর বাণী লেখা রয়েছে। এই লেখাগুলো কতোটা ছেলেমেয়েদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করে? এই বিষয়ে জানতে চাইলে  ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ এর সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় দেয়ালে এই লেখাগুলো পড়েছি। এগু...