পোস্টগুলি

নিপীড়নের নতুন ফাঁদ মহামারী !

ছবি
  সুত্রঃ ইন্টারনেট কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দমনপীড়ন ও ভুয়া তথ্য বেড়ে চলেছে সমানতালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এই উদ্বেগের মধ্যে আছে যে, মহামারির সময়ে রোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে ক্ষতিকর ভুল তথ্য ছড়িয়ে এটি প্রতিরোধের উদ্যোগকে ব্যহত করার সুযোগ নিতে পারে কেউ কেউ। তাদের এই উদ্বেগের যথার্থতাও রয়েছে।কিন্তু, কিছু সরকার নিজেরাই বরং এই মুহূর্তটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেসব তথ্য সরকারের জন্য অসুবিধাজনক সেগুলো দমন করা কিংবা সমালোচকদের ওপর নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপলক্ষ হিসেবে বর্তমান সময়টিকে কাজে লাগাচ্ছে এসব সরকার। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল বেনাপোল বন্দর থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন বলে আজ রবিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে পুলিশ। এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয় যে কাজল জীবিত আছেন এবং পুলিশের হেফাজতে আছেন।   বাংলাদেশে যখন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছেন এমন পরিস্থিতিতে কাজলের ১১ বছর বয়সী মেয়ে ও ২০ বছর বয়সী ছেলে তাদের বাবার শুধু নিরাপত্তার কথা ভেবে উদ্বিগ্ন নয়, তার শারীরিক সুস্থতা নিয়েও তারা বিচলিত।ফ...

অর্থের কাছে হার মানে সম্পর্ক!

 আমাদের আশপাশে নানান ধরনের মানুষ বসবাস করে। সবার মধ্যেই রয়েছে হিংসা, ভালোবাসা, প্রেম কিংবা রাগ-ক্ষোভ।প্রকৃত অর্থে, মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব নয় বরং নীরবতা বা চাটুকারিতা বা খোশামোদ সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে। সম্পর্ক নষ্টের আরেকটি প্রধান কারণ হলো অর্থ।অর্থই মানুষের সম্পর্কের ফাটল ধরায়। মানুষ টাকার পিছনে ছুটতে গিয়ে অনেক সময় সম্পর্কের তোয়াক্কা করে না। এসব কারনে অর্থের দূরত্ব,রক্তের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। আমাদের শৈশবকাল টা যেন জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়। তখন আমরা খেলাধুলা পড়াশোনা আর সবার ভালোবাসার মধ্যেই থাকি। ভাই বোনদের খুনসুটি মা-বাবার বকাঝকা এটাই যেন থাকে জীবনের আনন্দ। কিন্তু  বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ভাই বোনের সম্পর্ক আর ভাই বোনের সম্পর্ক থাকে না। তখন যতোটুকু সম্পর্ক থাকে তা শুধুই সম্পদের। বয়স বাড়তে থাকলে যেমন জীবনে আনন্দগুলো অনুভূতিগুলো বদলাতে থাকে তেমনি সম্পর্কের মধ্যেও যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি চলে আসে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে মনে হয় সম্পর্কের দূরত্ব বেড়ে যায়। একটা সময় এই সম্পর্কগুলো পরিমাপ করা হয় অর্থের মাপকাঠিতে। মুখোমুখি হতে হয় কঠিন বাস্তবতার। সম্পর্ক নষ্টের অন্যতম কারণ ইগো বা...

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মৌলিক অধিকার হরণ

ছবি
 আজ মহাবিশ্ব করোনা ভাইরাস নামক এক বৈশ্বিক মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ব মানব সমাজ আজ এক অকল্পনীয় মহাবিপর্যের মুখোমুখিতে।  আর যেন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিতান্ত অসহায়ের মত প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছে। বিশ্বের মহা শক্তিধর উন্নত দেশগুলো অদৃশ্য এ অনুজীবের আক্রমণের কাছে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে।সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে চার লক্ষ ছুঁই ছুঁই করছে।আক্রান্তের সংখ্যাও প্রায় অর্ধকোটি ছাড়িয়েছে। প্রথম যখন চীনে এই ভাইরাস আক্রমণ করে, তার ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তখন আমাদের সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা এটা নিয়ে রীতিমত মশকারা করে-আমরা করোনার ছেয়ে শক্তিশালী, করোনা আমাদের কিছুই করতে পারবেনা-ইত্যাদি বালখিল্য বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তুলে। পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকা শর্তেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিয়ে-আমাদের সরকার বাহাদুর বলতে থাকেন-আমরা প্রস্তুত। দেখা যাক প্রস্তুতির নমুনা। যখন আমাদের উপর আক্রমণ আসল-তখনি আমরা দেখতে পাচ্ছি-চিকিৎসা কোন বালাইষাট, করোনা পরীক্ষা করার প্রস্তুতিও আমাদের ছিল না। এ কেমন প্রস্তুতি? আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে কত নাজুক, তা করোনাক্রান্ত রোগীদে...

সেবাই নাকি পুলিশের ধর্ম???

ছবি
 বাঘে ছুঁলে আঠারো আর পুলিশে ছুঁলে ৩৬  ঘা একথা আমরা ভুলে যাই নি। ভুলে যায়নি এ কারণে যে আমাদের সমাজে ক্ষণে ক্ষণে কেউ না কেউ আমি নই তো আপনি প্রতিনিয়ত পুলিশের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি ।এটি আর এখন প্রবাদ নয় বাস্তবতা নির্মম বড়ই কঠিন।  পুলিশের কাজ দেশকে মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া । মানুষ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সে গুলোকে আইনের আওতায় এনে বিচার কার্য করা। এগুলো ঠিক হচ্ছে পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে কিন্তু বাংলাদেশ নয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা পুলিশের কর্মকান্ড গুলোতে এমনই দেখতে পায় তারা মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষকে সাহায্য করা এবং মানুষের জন্য কাজ করে যায় এবং দেশ এবং মানুষকে নিরাপত্তা দেয় শত্রু থেকে মুক্ত রাখে ।কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাদের সাথে সাথেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি সবার জন্য অনিবার্য মন্ত্রী বা নিম্ন স্তরের মানুষের জন্য তা নিশ্চিত করে। সেদিন মদিনা মার্কেট পয়েন্ট থেকে গাড়িতে উঠে কাজিরবাজার সেতুর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম পথিমধ্যে রিকাবী বাজার পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ গাড়িতে সিগন্যাল দিল ড্রাইভার রাস্তার পাশে গাড়িটি পার্কিং করল। এবার পুলিশ কাছে এসে গ...

বাংলাদেশ ও শিক্ষাব্যবস্থা!

ছবি
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষাই পারে মানুষকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে। শিক্ষা মানুষের মন মস্তিষ্ক চলাফেরা সবকিছুর পরিবর্তন ঘটায়। আর এজন্য চাই মানসম্পন্ন যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা। মানসম্পন্ন শিক্ষার দাঁড়াই ভালো মানের শিক্ষা আসা করা যায়।   ছবি: ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই নড়বড়ে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ওই লেভেলে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর হলেও দুঃখের ব্যাপার বটে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর বা কারিগরি মাধ্যমে নয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পদে পদে বিভক্ত। যেমন,বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম, আলিয়া মাদ্রাসা, কওমী মাদসা। আর এই সব জায়গায়ই শিক্ষাব্যবস্থার ডিফারেন্ট ভাবে তৈরি করা হয়েছে। অথচ আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি এখানে আমরা দেখতে পাই একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত। আমাদের দেশে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা হয় নানা সমস্যায় জর্জরিত আমরা। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমি প্রথম কথা...

খাদেম মানে নাকি সেবক!!

ছবি
৩৬০ আউলিয়ার দেশ বাংলাদেশ ইতিহাস বলে  এদেশে আউলিয়াদের যাত্রা শুরু হয়েছিল পূণ্যভূমি সিলেট থেকে। আর তাদের নেতৃত্বে ছিলেন হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।ইসলাম প্রচারে আউলিয়ারা  ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। শাহজালাল এর ওফাতের পর গড়ে ওঠে মাজার শরীফ। তৈরি হয় কোটি কোটি মুসলমান ভক্ত। তাই শত শত বছর পরেও শাহজালাল বেঁচে আছেন,বেঁচে থাকবেন ভক্তদের হৃদয়ে। শাহজালাল (রা) মাজার শরীফ  আর আমরা জানি শাহজালাল রহমাতুল্লাহ আলাইহির মাজার থেকে ১০কিলোমিটার দূরে হযরত শাহপরান রাহমাতুল্লাহ আলাইহি মাজার শরীফ ।ইসলাম প্রচারে হযরত শাহপরান রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এর অবদান অনেক। শাহপরান(রাহ) মাজার শরীফ আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আমি আমার ব্লগে কেন এই মাজার শরীফ নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি? শেষপর্যন্ত পড়ুন বুঝতে পারবেন মাজারকে ঘিরে কত রকম রমরমা ব্যবসা গড়ে উঠছে এখন।  "মাজার" যেখানে মানুষ প্রতিদিন হাজির হয় গভীর বিশ্বাস নিয়ে,আবার কেউ কেউ সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে তুলে লুটপাটের রাজত্ব। জি এখনোই চমকাবেন না! মানুষ প্রতিদিন এখানে আসে আর তাদের মানতের জিনিস তারা সেখান দিয়ে যায়। আর সেই মানতের জিনিসই নাকি...

মহামারী থেকে শিক্ষা!

ছবি
 বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ প্রাণঘাতের বিপরীতে মানুষের জন্য জানার এবং শেখার অনেক বার্তাও নিয়ে এসেছে। ভিনগ্রহের কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী নয় আমাদের নিজ গ্রহে সৃষ্ট একটি অতিক্ষুদ্র প্রাণহীন পার্টিকল আমাদের সকল দম্ভকে কত অনায়াসেই না চূর্ণ বিচুর্ণ করে দিয়েছে। পথে বসিয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের মহারাজাদের। মহা বিপর্যয় ঘটিয়ে দিয়েছে স্টক মার্কেটে। মানবজাতির নিরন্তর ঝগড়াঝাটি কাজিয়া ফ্যাসাদ যুদ্ধ বিগ্রহ এখন স্তব্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ কোটি দরীদ্র মানবসন্তানকে অভুক্ত রেখে কেবল অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে সংগৃহিত পারমানবিক অস্ত্র অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান আর ক্ষেপনাস্ত্র এখন বাতিল তৈজষের মত পড়ে আছে আমাদের অহমিকা আর অসুস্থতার স্মারক হিসেবে। স্রেফ মানুষকে হত্যার জন্য আমরা এমনসব অস্ত্রের আবিস্কার ও মওজুত গড়েছি যার মাত্র এক শতাংশের বিস্ফোরণ ঘটালে এই গ্রহটিই মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যাবে। করোনা ভাইরাস বুঝিয়ে দিয়েছে মানুষ তার শত্রু হিসেবে শুধু মানুষকেই তার হিসেবে রেখেছে মানুষের বাইরেও যে অনেক শত্রু আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলতে পারে সেই আশংকাকে আমরা শিকেয় তুলে রেখেছিলাম। এক আমাদের হৃদয় প্রাণ উজাড় করে দেয়া প...